মোহাম্মদ আককাস আলী :
নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেছেন,মানব সভ্যতার জ্ঞান, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারণ ও সংরক্ষণাগার হলো লাইব্রেরী বা গ্রন্থাগার।
এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম জ্ঞান ছড়িয়ে দেয়। মানব ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় জ্ঞান সঞ্চালনের চ্যানেল হিসেবে কাজ করে লাইব্রেরী। লাইব্রেরীতে সংরক্ষিত বইগুলি এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে মানুষের অর্জিত জ্ঞানকে আরও একটু জন্মে ছড়িয়ে দেয়।
লাইব্রেরীর প্রতি দুর্বলতা আমার ছোটবেলা থেকেই ছিল। যখন স্কুলে ছিলাম তখন আমাদের স্কুলের কাছাকাছি ছিল টঙ্গী পৌর পাঠাগার। আমি প্রায়ই বিকেল বেলা সেখানে যেতাম এবং বিভিন্ন ধরনের জ্ঞান এবং বিজ্ঞানের বইয়ের সাথে আমার পরিচয় সেই লাইব্রেরী থেকেই। এরপর থেকে যেখানে গিয়েছি, অথবা বেড়াতে গিয়েছি সেখানকার পরিচিত লাইব্রেরী গুলো ভিজিট করেছি।যদিও বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে লাইব্রেরী চর্চা অনেকটাই কমে গেছে। কিন্তু আমি যখন ইংল্যান্ডে পড়তে গিয়েছিলাম সেখানে আমি দেখেছি প্রাথমিক পর্যায়ে হতে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীরা জ্ঞান অর্জনের জন্য ব্যাপকভাবে লাইব্রেরী ব্যবহার করে। প্রত্যেক শহরের প্রত্যেক পাড়ায় একটি করে লাইব্রেরী রয়েছে। আমার বাচ্চারা আমার অবস্থানকালীন ১৩ মাসে শতাধিক বই লাইব্রেরি থেকে পড়েছে। অথচ লাস্ট ৭ বছরে ২০টি বেশি বই পড়েছে কিনা আমার সন্দেহ আছে। শিশু বয়স থেকেই বাচ্চাদেরকে লাইব্রেরীর সাথে ইন্টারেকশন করে দিতে হবে তবেই তারা ভবিষ্যতের টিকটক, অনলাইন জুয়া, অনলাইন গেমস ইত্যাদি বাদ দিয়ে বই পড়াই অভ্যস্ত হবে।
দীর্ঘদিন যখন ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে ছিলাম, সেখানে ছোট্ট একটি সুন্দর লাইব্রেরী তৈরি করেছি, বই পড়ার অভ্যেস তৈরি করতে সহকর্মীদের উৎসাহ দিয়েছি। স্বল্প সময় নাটোর জেলায় থাকাকালীন সেখানকার ছোট্ট পুলিশ লাইন লাইব্রেরী কে কিছুটা সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করেছি। বেশ কিছুদিন যাবত নওগাঁ জেলার পুলিশ লাইনে একটি লাইব্রেরীর অভাব অনুভব করছিলাম। পরিশেষে গত একুশে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে নওগাঁ জেলার পুলিশ লাইনের সীমিত পরিসরে একটি লাইব্রেরীর যাত্রা শুরু করলাম। লাইব্রেরীটির নাম দিলাম "বাতিঘর"। আমি আশা করি এই বাতিঘর লাইব্রেরীর মাধ্যমে আমাদের পুলিশ লাইনের পুলিশ সদস্যগণ কিছুটা হলেও বই পড়ার অভ্যস্ত হবে। তাদের মননশীলতা এবং সৃজনশীলতার বিকাশ হবে।
নওগাঁ জেলার ইতিহাস এবং ঐতিহ্য সংক্রান্তে আপনাদের কাছে যদি কোন বই থাকে অথবা আপনারা যারা লেখক আছেন তারা যদি আপনাদের বই পুলিশ লাইন লাইব্রেরী " বাতিঘরে " দান করতে চান তবে আপনাদেরকে সাদর আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আপনারা আপনাদের বইসমূহ ব্যক্তিগতভাবে অথবা কুরিয়ারে অথবা ডাকে পুলিশ সুপারের কার্যালয় নওগাঁয়ে পৌঁছে দিতে পারেন। আপনার বইটি ও সযত্নে আমাদের পুলিশ লাইন লাইব্রেরীতে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম সংরক্ষিত থাকবে। অনেকে হয়তো বা পড়বে। চলুন আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পরিমিত অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করে অবসর সময় লাইব্রেরীতে বই পড়ার অভ্যাস করি। এই অভ্যাস আপনার ভিতরে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাবে।