মোহাম্মদ আককাস আলী :
এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে দাফিয়ে বেড়াচ্ছে সাংবাদিকতায়।শুধু তাই নয় এরা প্রশাসনের দালালি আর চাটুকারীতা করে হাতিয়ে নিচ্ছে সরকারি বেসরকারি বিজ্ঞাপনসহ সকল সুবিধা। এদের রোষানলে পড়ে প্রকৃত সাংবাদিকেরা বঞ্চিত হচ্ছে সকল সুবিধা থেকে। সিনিয়র সাংবাদিক লিয়াকত আলী,বরুণ মজুমদার জানান,জেলা উপজেলায় এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজের একাধিক শিক্ষক এই সাংবাদিকতা পেশায় জরিত। শুধু তাই নয় তারা স্কুল কলেজ ফাঁকি দিয়ে প্রশাসনের চাটুকারীতায় ব্যস্ত হয়ে উঠছে। কেউ কেউ প্রেসক্লাবের সভাপতি,সম্পাদক হয়ে অফিস পাড়ার প্রতিটি প্রোগ্রামে অংশগ্রহণে তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করলেও প্রশাসনের মাথাব্যথা নেই বললেই চলে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের সাথে কথা হলে তারা জানান, যেসব শিক্ষকেরা সাংবাদিকতা পেশায় জড়িত তাদের নাম দিয়ে নিউজ করে পাঠিয়ে দেন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সূত্রে প্রকাশ,এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নতুন করে পেশাগত সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে সরকার। সম্প্রতি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, শিক্ষকতার পাশাপাশি এখন থেকে নির্দিষ্ট ১১টি পেশায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা অংশ নিতে পারবেন না। শিক্ষকতার মূল দায়িত্ব ও সময়ের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত থাকতে পারবেন না। একই সঙ্গে আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময় এক হওয়ায় আইন পেশায় অংশগ্রহণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়া কোচিং সেন্টার পরিচালনা বা সেখানে শিক্ষকতা, কেজি স্কুল পরিচালনা, শিক্ষাবিষয়ক প্রকাশনা বা পাবলিকেশন্সের বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও যুক্ত থাকা যাবে না।নিষিদ্ধ পেশার তালিকায় আরও রয়েছে—হজ্ব এজেন্ট বা এর মার্কেটিং কার্যক্রম, বিয়ের কাজী বা ঘটকালী পেশা, টং দোকান বা যেকোনো ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা, ঠিকাদারি বা নির্মাণ ব্যবসা এবং মসজিদে পূর্ণকালীন ইমাম বা খতিবের দায়িত্ব পালন (যা শিক্ষকতার সময়কে প্রভাবিত করে)। পাশাপাশি কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিশেষ সহকারী বা চাটুকার হিসেবে নিয়োজিত থাকার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
