মোহাম্মদ আককাস আলী :
দীর্ঘদিন ধরে নওগাঁসহ একাধিক জেলায় আতঙ্ক ছড়ানো আন্তজেলা সিরিয়াল অপরাধী গোলাম মোরশেদ ওরফে মোরশেদ আলম (২৭)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে গাজীপুর থেকে তাকে আটক করা হয়।
বৃহস্পতিবার(১১জুন) রাতে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়,গত ১৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার নানাইচ ও জাহানপুর এলাকায় কয়েকটি বাড়িতে ঢুকে ঘুমন্ত নারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় কলেজছাত্রী উম্মে হাবিবা গুরুতর আহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। একই রাতে আরও কয়েকজন আহত হন।
এরপর ৭ ফেব্রুয়ারি ধামইরহাটের বিভিন্ন এলাকায় একই কায়দায় একাধিক বাড়িতে ঢুকে নারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এসব ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে ৭ মে বদলগাছী উপজেলার দুর্গাপুর, ঘোয়ালভিটা ও নয়নশহর এলাকায় এবং ৪ জুন পত্নীতলা উপজেলার শিমুলিয়া ও নান্দাশ গ্রামে একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় একাধিক নারী আহত হন।
ঘটনাগুলোর ধরন ও কৌশলে মিল থাকায় নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জয়ব্রত পালের নেতৃত্বে ডিবি, সাইবার ইউনিট ও সংশ্লিষ্ট থানার সমন্বয়ে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে দীর্ঘ তদন্তের পর অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়।
পরে ১০ জুন ভোরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকার বাসন থানার শরীফপুর কোনাপাড়া এলাকা থেকে গোলাম মোর্শেদকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাড়ি দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার পাতহাট এলাকায়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে ধামইরহাটে উম্মে হাবিবার ওপর হামলার কথা স্বীকার করে। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। এছাড়া ধামইরহাট, বদলগাছী ও পত্নীতলায় অন্তত আটটি ঘটনায় জড়িত থাকার কথাও স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্ত সূত্রে আরও জানা গেছে, দিনাজপুরের বিভিন্ন থানায় সংঘটিত পাঁচটি এবং জয়পুরহাট জেলার একটি ঘটনার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় কয়েকজন নারী গুরুতর আহত এবং অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানা যায়।
নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তি ও নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে মামলাগুলোর রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। অভিযুক্তকে একাধিক মামলায় গ্রেফতার দেখানোর প্রক্রিয়া চলছে।”
তিনি আরও বলেন, “নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে নওগাঁ জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”
এ ঘটনায় নওগাঁ জেলায় মোট চারটি মামলা দায়ের হয়েছে। অন্যান্য জেলার মামলাগুলোতেও তার সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।