ভোরের আলো ফোটার আগেই ছোট্ট হাতগুলো জেগে ওঠে কেউ ঝুড়ি কাঁধে ময়লার স্তূপে ভবিষ্যৎ খোঁজে,
কেউ ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে জীবনের কাছে হাত বাড়ায়। এই শিশুরাই আমাদের আগামীর সম্ভাবনা। অথচ আজ তারা সবচেয়ে অবহেলিত।
আমরা প্রায়ই বলি " শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ "
কিন্তু এই কথাটা কি শুধু বইয়ের পাতাতেই আটকে থাকবে?
বাস্তবে আমরা কতটা তাদের জন্য সহানুভূতিশীল?
একটি শিশু জন্ম নেয় সীমাহীন সম্ভাবনা নিয়ে।
তার চোখে থাকে রঙিন স্বপ্ন, তার মনে থাকে পৃথিবীটাকে নতুন করে গড়ার আকাঙ্ক্ষা।
কিন্তু দারিদ্র্য, অবহেলা আর নির্যাতনের চাপে সেই স্বপ্নগুলো ধীরে ধীরে বিবর্ণ হয়ে যায়।
রাস্তার ধারে যে শিশুটি ফুল বিক্রি করে,
সে হয়তো স্কুলের বই হাতে নিয়ে গল্প লিখতে পারত।
যে শিশুটি ইটভাটায় কাজ করে,
সে হয়তো একজন প্রকৌশলী হয়ে দেশ গড়তে পারত।
চায়ের স্টলে, কফি শপে, হোটেলে যে ছোট শিশু বা কিশোর আমাদের পানি বা কাপ এগিয়ে দেয় তাকে ৫০/ ১০০ টাকা টিপস্ নয়, মমতার হাত বাড়িয়ে... পারলে হাতে ধরিয়ে দেন বই খাতা কলম। অন্তত একটি শিশু বা কিশোরের দায়িত্ব আপনি নেন দেখবেন পৃথিবীটা কত সুন্দর কত শিশু বান্ধব।
শুধু সুযোগের অভাবে, শুধু আমাদের উদাসীনতায়
তাদের সম্ভাবনা হারিয়ে যাচ্ছে।
সহানুভূতি মানে শুধু দয়া দেখানো নয়,
বরং তাদের মানুষ হিসেবে সম্মান করা, তাদের অধিকার নিশ্চিত করা।
একটু ভালো ব্যবহার, একটু সহানুভূতির দৃষ্টি,একটি সুযোগ।
একটি শিশুর জীবন বদলে দিতে পারে।
আমরা যদি চাই,
তবে এই শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলা অসম্ভব কিছু নয়।
প্রতিটি পরিবার, প্রতিটি সমাজ, প্রতিটি মানুষ যদি নিজের জায়গা থেকে একটু করে দায়িত্ব নেয়,
তবে বদলে যেতে পারে অনেক কিছু।
কারণ আজকের এই ছোট্ট হাতগুলোই
আগামী দিনের দেশ গড়ার হাতিয়ার হবে।
শিশুরা ভবিষ্যৎ বলেই বসে না থেকে...
তাদের বর্তমানটাকেও সুন্দর করে তুলি।
কারণ একটি শিশুর হাসি মানেই
একটি উজ্জ্বল আগামী!