আমের রাজধানী নওগাঁর আমবাগান পরিদর্শনে জাপানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল

 মোহাম্মদ আককাস আলী :




আমের রাজধানী হিসেবে খ্যাত নওগাঁর পোরশা উপজেলায় রপ্তানিযোগ্য আমবাগান পরিদর্শন করেছে জাপানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল। বাগান পরিদর্শন শেষে নিরাপদ ও সুস্বাদু আম দেখে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ আম আমদানির আগ্রহ দেখিয়েছেন।

শুক্রবার বন্ধুপাড়া এলাকায় ‘ফ্রুটস মিউজিয়াম অ্যাগ্রো ফার্ম’ নামে একটি বাগান পরিদর্শন করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

জাপানি প্রতিনিধি দলের সদস্য কাওয়ামতু জানান, জাপানে আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ঢাকায় নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূতের নির্দেশনায় তারা রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ অঞ্চলের রপ্তানিযোগ্য আমবাগান পরিদর্শনে এসেছেন। বর্তমানে আম রপ্তানির বিভিন্ন পর্যায় যাচাই-বাছাই চলছে। সব ঠিক থাকলে জাপান বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ আম নেবে।

কাওয়ামতু বলেন, ‘আমরা জেনেছি নওগাঁর আম অত্যন্ত সুমিষ্ট ও সুস্বাদু। এই এলাকার আম কতটা রপ্তানিযোগ্য, তা যাচাই করতে প্রতিনিধি হিসেবে এসেছি। বাংলাদেশে উৎপাদিত ফ্রেশ আম আমরা জাপানের বাজারে নিতে চাই।’

প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন সাকাকিবারা, ইশিমটু ও শিগিমরি। পরিদর্শনের সময় বাংলাদেশি আম রপ্তানিকারক আবু সাঈদ সঙ্গে ছিলেন। বাগান পরিদর্শনের পাশাপাশি তারা কয়েকটি জেলায় আমের গ্রেডিং, শর্টিং ও শোধন কেন্দ্র ঘুরে দেখছেন। এতে নতুন সম্ভাবনার আশা দেখছেন বাগানমালিক ও উদ্যোক্তারা।

উত্তম কৃষি চর্চার (গ্যাপ) মাধ্যমে চাষ করা আম দেখে জাপানি প্রতিনিধি দল মুগ্ধ হয়েছে। তারা বাগানের অম্রপালি, বারি-৪, কাটিমন, ব্যানানা ম্যাংগোসহ বিভিন্ন জাতের আমগাছ ঘুরে দেখেন ও চাষ পদ্ধতির খোঁজ নেন।

পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন ফ্রুটস মিউজিয়াম অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক রায়হান সিদ্দিক, স্থানীয় আমচাষি আকরাম হোসেন, শহিদুল, সালাউদ্দিন ও পোরশা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিম রেজা।

উত্তম কৃষি চর্চার সনদ পাওয়া বাগানমালিক রায়হান সিদ্দিক জাপানি দলকে বিভিন্ন জাতের আম সম্পর্কে ধারণা দেন।

রায়হান সিদ্দিক বলেন, ‘বিগত কয়েক বছর ধরে নওগাঁ থেকে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আম যাচ্ছে। গত বছর থেকে চীনের বাজারেও আম রপ্তানি শুরু হয়েছে। এ বছর প্রথম জাপানের বাজারে আম রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে আমচাষিরা লাভবান হবেন।’

আমচাষি সালাউদ্দিন বলেন, ‘কোনো তৃতীয় পক্ষ ছাড়া সরাসরি বাগান থেকে জাপানে আম রপ্তানি করতে পারলে চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে।’

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিম রেজা জানান, উত্তম কৃষিচর্চা অনুসরণ করে নিরাপদ আমের উৎপাদন কার্যক্রম দেখে জাপানি প্রতিনিধি দল সন্তুষ্ট হয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির আমবাগান থেকে ৩ লাখ ৮৬ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

News Publisher (Editor Cheif)

মহাদেবপুরের খবর এর সকল নিউজের সঠিক এডিটিং কনফার্মেশন এর দায়িত্বে নিয়োজিত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন