মোহাম্মদ আককাস আলী,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইল থেকে বহুল আলোচিত ও ভয়ঙ্কর রাসায়নিক ‘স্কোপোলামিন’ বা ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ ব্যবহারকারী চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
নওগাঁ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও প্রযুক্তির সহায়তায় টাঙ্গাইল জেলা থেকে শনিবার (২০ জুন) রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ইতোমধ্যে নওগাঁর বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী গ্রেফতারকৃতদের শনাক্ত করেছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. আবু হাসান, মো. বাবু ও মো. সবুজ। তাদের সবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার চনপাড়া এলাকায়।
পুলিশ জানায়, গত কয়েক মাসে নওগাঁ শহরের বিভিন্ন এলাকায় কথিত ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ বা বিশেষ ধরনের কেমিক্যাল স্কোপোলামিন ব্যবহার করে বয়স্ক নারীদের সম্মোহিত করে তাদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটে। এ ধরনের ঘটনায় নওগাঁ থানায় তিনটি মামলা দায়ের হয়।
মামলাগুলোর তদন্তে জেলা গোয়েন্দা শাখা একাধিকবার নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালায়। তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ডিবি পুলিশ জানতে পারে, চক্রটি টাঙ্গাইল জেলায় একই ধরনের অপরাধ সংঘটনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় একটি বিশেষ দল টাঙ্গাইলে অভিযান চালিয়ে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকাকে কেন্দ্র করে তাদের আট থেকে দশটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে একই কৌশলে অপরাধ সংঘটিত করে আসছে। ইতোমধ্যে নওগাঁ, নারায়ণগঞ্জ ও খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় অন্তত ১০টি অপরাধ সংঘটনের তথ্য তারা স্বীকার করেছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, চক্রের সদস্যরা সাধারণত বয়স্ক নারীদের টার্গেট করে। প্রথমে একজন সদস্য সাহায্যের কথা বলে ভুক্তভোগীর সঙ্গে পরিচিত হয়। পরে আরও দু’জন সদস্য এসে কথোপকথনের একপর্যায়ে বিশেষ ধরনের কেমিক্যাল বা স্প্রে প্রয়োগ করে। এতে ভুক্তভোগী সাময়িকভাবে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন এবং অপরাধীদের কথামতো স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ তাদের হাতে তুলে দেন। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অপরাধ দমনে নওগাঁ জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।