মোহাম্মদ আককাস আলী,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি :
নওগাঁ জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে র্যাব-১২, বগুড়ার সহযোগিতায় নাটোরের সিংড়া উপজেলা থেকে আন্তজেলা গরু চোর চক্রের আরও তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়। এর আগে একই অভিযানে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে চক্রটির ছয় সদস্যকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত কয়েক সপ্তাহে নওগাঁ জেলার রানীনগর, আত্রাই, বদলগাছী ও মহাদেবপুর উপজেলায় একাধিক গরু চুরির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক বিশেষ দল গঠন করা হয়।
গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৪ জুলাই পরিচালিত অভিযানে তিনজন আন্তজেলা গরু চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিক তদন্তে ২১ জুলাই রাতে র্যাব-১২, বগুড়ার সহযোগিতায় বগুড়া থেকে চক্রের অন্যতম সদস্য গোলাম রাব্বানীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে গোলাম রাব্বানীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় ডিবির ইনচার্জ পরিদর্শক হাসিব এবং রানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়ার নেতৃত্বে একটি দল নাটোরের সিংড়ায় অভিযান চালায়। অভিযানে র্যাবের একটি দলও অংশ নেয়।
প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যেও গভীর রাতে সিংড়া উপজেলার হাট তাজপুর এলাকা থেকে কুখ্যাত গরু চোর শ্রী সুজিত ওরফে অজিত চন্দ্র হালদার (৪০) এবং শ্রী সুচন্দন রাজবংশী ওরফে সজল (২৭)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া ও ময়মনসিংহকেন্দ্রিক একটি আন্তজেলা চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু চুরি ও ডাকাতির মাধ্যমে লুট করা গরু সংগ্রহ করত। পরে সেগুলো নাটোরের সিংড়া এলাকায় কিছুদিন লালন-পালন করে বিক্রি করা হতো। গ্রেপ্তার হওয়া সুজিত ও সুচন্দন স্থানীয়ভাবে গরুর ব্যবসায়ী পরিচয়ে এই কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, "গরু কৃষকের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ। গরু চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"